রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত ঘনিরামপুর গ্রামে গড়ে ওঠা একটি জুতার কারখানা বদলে দিচ্ছে স্থানীয় নারীদের জীবন। প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত Bling Leather Products–এর এই কারখানায় কাজ করে এখন স্বাবলম্বী হচ্ছেন হাজারো গ্রামীণ নারী; তাঁদের তৈরি জুতা রপ্তানি হচ্ছে ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে।
২০১৭ সালে নীলফামারীর উদ্যোক্তা দুই ভাই মো. হাসানুজ্জামান ও প্রয়াত মো. সেলিম তারাগঞ্জে সাড়ে ৯ একর জমির ওপর কারখানাটি গড়ে তোলেন। বর্তমানে এখানে প্রায় তিন হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, যার ৮০ শতাংশই স্থানীয় নারী।
কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মো. হাসানুজ্জামান জানান, দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও দেশের জন্য কিছু করার ইচ্ছা থেকেই তাঁরা এই শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ছিল তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়িয়ে দৈনিক ৫০ হাজার জোড়া জুতা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, এখানে উৎপাদিত সিনথেটিক জুতা বর্তমানে পোল্যান্ড, তুরস্ক, জার্মানি, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। বর্তমানে দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১০ হাজার জোড়া। গুণগত মান নিশ্চিত করতে বিদেশি বিশেষজ্ঞরাও কাজ করছেন।
প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালে Rupali Bank থেকে সর্বোচ্চ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পেয়েছে।
কারখানার শ্রমিকদের অনেকেই আগে বেকার ছিলেন বা ঢাকাসহ দূরবর্তী এলাকায় কাজ করতেন। কাটিং ইউনিটের শ্রমিক ভানু রানী বলেন, গ্রামের বাড়িতে বসেই এখন নিয়মিত আয় করতে পারছেন তিনি এবং সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়ও করছেন।
প্যাকেজিং ইউনিটের কর্মী আদুরি রানী জানান, আগে ঢাকায় কাজ করে বাসাভাড়া ও খরচ মিটিয়ে কিছুই থাকত না। এখন নিজ এলাকায় থেকে আয় করার পাশাপাশি পরিবারকে সময় দিতে পারছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, কারখানাটি চালু হওয়ার পর এলাকার বেকারত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং বাজার-বাণিজ্যও চাঙা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, পরিকল্পিত সম্প্রসারণ বাস্তবায়িত হলে আরও বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে, যার বড় অংশই নারী।
মন্তব্য করুন